জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতন ঘটিয়ে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্র সংস্কারের উদ্দেশ্যে সরকারের কাছে কুরআন পাঠ আন্দোলন-এর পক্ষ থেকে নিম্নে কতিপয় মৌলিক প্রস্তাবনা সংক্ষেপে পেশ করা হলো:
এক. স্বাধীন বিচার বিভাগ কায়েম করতে হবে।
দুই. পুলিশ প্রশাসনের আমুল সংস্কার সাধন করতে হবে – জনবান্ধব একটি নাম ও পোশাক পরিবর্তন আবশ্যক।
তিন. শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে স্বল্পমেয়াদী থেকে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা। শিক্ষা খাতে মোট বাৎসরিক বাজেটের ১০ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ থাকতে হবে। সেইসাথে শিক্ষকদের আলাদা বেতন কাঠামো তৈরি করতে হবে।
চার. প্রয়াত জাতীয় নেতা যেমন, মওলানা ভাষানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান (এমনকি খালেদা-হাসিনা) – এদের অবস্থান, কর্মকান্ড বা কৃতিত্ব ইত্যাদি ইতিহাসের বিষয়। ইতিহাসবিদ বা গবেষকদের উপরই এদের ছেড়ে দেয়া হোক। প্রয়াত কোন নেতাকে চলমান রাজনীতিতে টেনে আনার বিধান আনইনগত নিষিদ্ধ করতে হবে।
পাঁচ. চারবছর করে দুই মেয়াদের বেশী কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না।
ছয়. যারা (এমপি, মন্ত্রী, আমলা, ব্যবসায়ী, সরকারী-আধা সরকারী কর্মচারী প্রভৃতি) অতীতে দেশের ধন-সম্পদ লুট করেছে এবং বিদেশে পাচার করেছে, তাদের পাচারকৃত অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
সাত. ধর্মীয় বিষয়ে সহিষ্ণুতা বৃদ্ধিকল্পে বিভিন্ন ধর্মগোষ্ঠী কর্তৃক যে কোন ভিন্নমত দমনের প্রথাগত ধারাকে আইন করে নিষিদ্ধ করতে হবে। কোনো ধর্মমতের পূজনীয় ব্যক্তিদেরকে গালিগালাজ করা যাবে না এবং কোনো ধর্মগোষ্ঠীর বা ধর্মমত অবলম্বনকারী ব্যক্তির উপর জোর করে ভিন্নমত চাপিয়ে দেয়া যাবে না বা তার মতাদর্শের কারণে তাকে হামলা করা যাবে না এবং হামলার জন্য জনগণকে নির্দেশ দেয়া যাবে না। যদি কেউ অপর কারো ধর্মানুভূতিতে আঘাত করেছে বা তার ধর্মের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে মর্মে অভিযোগ থাকে, সেটা শুধুমাত্র আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে হবে। ধর্মীয় উন্মাদনা সংক্রান্ত বিষয় যাচাই করার জন্য ধর্ম-মন্ত্রণালয়ে একটি সেল গঠন করা যেতে পারে, যাতে করে তারা সংশ্লিষ্ট দপ্তর/বিভাগকে কুরআন ভিত্তিক সঠিক পরামর্শ প্রদান করতে পারে।
আট. শিক্ষা কারিকুলামে প্রতিটি ধর্মগোষ্ঠীর জন্য তাদের নিজস্ব মৌলিক ধর্মগ্রন্থের মাতৃভাষায় পাঠকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। পর্যায়ক্রমে ৫ম শ্রেণি থেকে তা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পাঠ্যভূক্ত থাকতে পারে।
নয়. সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দু’বছরের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ চালু করতে হবে।