প্রস্তাবনা
কুরআন পাঠ আন্দোলন, কুরআন পাঠক এবং কুরআনের অনুসরাীদের সংগঠন। যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের এবং তাঁর কিতাব- কুরআনে বিশ্বাস করেন এবং কুরআনকে তার জীবনের পথ-নির্দেশ হিসাবে গ্রহণ করতে চান- যা একজন প্রকৃত মুসলিমের জন্য অপরিহার্য, তারা নিজেরা নিয়মিত কুরআন পাঠ করবেন ও কুরআনে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে নিজেরা জানবেন এবং সেখানে যে পথ-নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবেন। এর মাধ্যমে তিনি তার নিজের করণীয় সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। এভাবে একজন কুরআন পাঠক জ্ঞানের জগতে নিজেকে ক্ষমতায়ন (Empowerment) করতে সক্ষম হবেন, একই সাথে সামাজিক বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেকে যোগ্য অংশীদার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন।
আমরা মনে করি একজন কুরআন পাঠক নিজে কুরআন পাঠ করে কুরআনে বর্ণিত আল্লাহর আদেশ-নিষেধ ও উপদেশ সম্পর্কে জানার পর ইসলামের প্রকৃত বিধি-বিধান, ন্যায়-নীতি, মুল্যবোধ ইত্যাদি বিষয়ে সহজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হবেন। ফলে কুরআনের বিধি-বিধান বা ইসলাম সম্পর্কে- ধর্মের পক্ষে বা ধর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্রেণির লোকজন, বিভিন্ন উদ্দেশ্যে যে সকল অসত্য বিকৃত প্রচারণা চালাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা সাধারণ মানুষকে প্রতারণার শিকার করছে, একজন কুরআন পাঠক সহজেই সে সব বিষয়ে সচেতন হতে পারবেন এবং এই প্রতারণা থেকে নিজেকে এবং নিজের পরিবার ও সমাজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
আমরা মনে করি একজন কুরআন পাঠক তিনি কুরআনের সত্য জানার পর অবশ্যই সেখানে বর্ণিত মূল্যবোধগুলো ধারণ করার চেষ্টা করবেন। এভাবে তিনি সে মূল্যবোধগুলো তার নিজের জীবনে ও তার পরিবারে এবং সমাজে প্রতিফলন ঘটাতে পারবেন এবং তারই অংশ হিসাবে তিনি তা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেয়ার জন্য নিজের করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
একজন কুরআন পাঠক তার করণীয় সম্পর্কে যখন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন নিশ্চয়ই তিনি চাইবেন একই মূল্যবোধে দীক্ষিত অন্যান্যদের সাথে সংযুক্ত হতে এবং এভাবে সমাজের অন্যান্য কুরআন পাঠকের সাথে সংযুক্তি প্রক্রিয়ায় পরস্পর মতবিনিময় বা পরামর্শের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ হতে পারবেন এবং সম্মিলিতভাবে তারা সমাজিক বা রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রভাবশালী অংশীদার (Stakeholder) হিসেবে আবির্ভুত হতে পারবেন। এর মাধ্যমে কুরআনের এইসব মূল্যবোধ- যেমন ভাল কাজে আদেশ এবং মন্দ কাজে নিষেধ করাসহ সমাজের অন্যায় অবিচার রোধে করণীয় সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
আমরা মনে করি উল্লিখিত প্রক্রিয়া চলমান রাখার ক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। শুধুমাত্র প্রচারের মাধ্যমে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে কুরআনের সর্বজনীন মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে রাষ্ট্র ও সমাজে কুরআনের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সর্বক্ষেত্রে বাকস্বাধীনতা অপরিহার্য। আমরা কুরআন পাঠকরা মনে করি শান্তিপূর্ণভাবে সমাজে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সর্বজনীন মূল্যবোধের চর্চ্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাকস্বাধীনতার বিকল্প নেই। বরং এর গুরুত্ব অপরিসীম। শুধুমাত্র এই অধিকারটি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্রের পক্ষে কল্যাণকর শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ সম্ভব। এভাবেই পরস্পর বিরোধী চিন্তার শান্তিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়ায় একটি উত্তম চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব এবং এর মাধ্যমে কল্যাণমূলক সমাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা বস্তুত কুরআনে বার্ণিত উত্তম মূল্যবোধের প্রতিফলন। সুতরাং আমরা বাকস্বাধীনতার পক্ষে সর্বদা সোচ্চারকণ্ঠ থাকতে চাই।
আমরা কুরআন পাঠকরা জানি যে দ্বীন-ধর্মে জোর-জবরদস্তি নেই। এমনকি আল্লাহকে, তাঁর রাসুলদেরকে অথবা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করে, সেক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে, সেখান থেকে সরে যাওয়া- সেটা উপেক্ষা করে উত্তম পন্থায় প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া (৪:১৪০, ৬:৬৮)। কুরআনের মুল্যবোধ হচ্ছে, ধর্মচর্চ্চার ক্ষেত্রে এই পৃথিবীতে প্রত্যেকেরই স্বাধীনতা রয়েছে। যে ইচ্ছে করবে সে ইসলাম গ্রহণ করবে এবং তা পালন করবে। রাসূলের দায়িত্ব পৌঁছে দেয়া বা প্রচার করা। বহুপূর্বে কুরআনের উদ্ধৃত এসব মূল্যবোধ এখন সর্বজনীন মুল্যবোধ হিসাবে সারা বিশ্ব গ্রহণ করেছে। এমন কি জাতিসংঘ মানবধিকার চার্টারেও এসব মূল্যবোধ অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
পবিত্র কুরআন পাঠ করে আমরা জানি যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে ন্যায়বিচার অপরিহার্য অংশ। দলমত বা পূর্ব শত্রুতার কারণে বিদ্বেষবশত অথবা নিকটজনের প্রতি ভালোবাসা অথবা আবেগ-অনুরাগবশত ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে কাউকে অসমভাবে বিবেচনা করা বা কোন প্রভাব বিস্তার করা পবিত্র কুরআনে নিষিদ্ধ। বিচারের ক্ষেত্রে সত্য প্রতিষ্ঠায় কুরআন খুবই কঠোর, আপোষহীন (৪:১৩৫)। কুরআনে তার বহু স্পষ্ট নির্দেশ আছে। সুতরাং কুরআনের মূল্যবোধ অনুযায়ী ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ধর্ম-বর্ণ-জাত বা মতবাদ বা পূর্ব শত্রুতার কারণে বিচারপ্রার্থীর প্রতি বিভেদ করা যাবে না। বহু পূর্বে মানবজাতির জন্য এ মূল্যবোধ নাজিল হয়েছে। এখন তা বিশ্বব্যাপী সর্বজনীন মূল্যবোধ হিসাবে গৃহীত হয়েছে। বিশ্বব্যাপী ন্যায়বিচারের সংজ্ঞায় এর কোন ব্যতিক্রম নেই। আমরা মনে করি, কুরআনের নিয়মিত পাঠকরাও কুরআনের এই মুল্যবোধে দীক্ষিত হয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবেন। এক্ষত্রে তারা ন্যায়বিচারের রক্ষাকবচ হিসাবে দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসতে পারবেন।
আমরা মনে করি একটি সমাজে বা রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা হলে সে রাষ্ট্রে হানাহানি, মারামারি, ঘুষ-দুর্নীতি, চুরিসহ সকল প্রকার অপরাধ দূরীভুত হতে বাধ্য। আমরা বিশ্বাস করি যে কেউ কুরআন পাঠ করলে এবং কুরআনের প্রতি আনুগত্য থাকলে এইসব মূল্যবোধের চর্চ্চায় তিনি নিজেকে সমৃদ্ধ করতে পারবেন। এভাবে নিজেকে এসব বিষয়ে ক্ষমতায়ন করার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী ভুমিকা পালনে সক্ষম হবেন।
পবিত্র কুরআনে খুবই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যার যার কর্মের ফলাফল তার নিজের। সে ভাল হলে তার কর্মের পুরস্কার তারই, সে মন্দ হলে তার দায়-দায়িত্ব তারই। সুতরাং পিতার কর্মের দায়ে যেমন তার সন্তানদের শাস্তি দেওয়া যায় না, একইভাবে পিতার কর্মের কৃতিত্বের উত্তরাধিকারীত্বও তার সন্তানরা দাবী করে বিশেষ সুবিধা গ্রহণের সুযোগ আল-কুরআনে নেই। সুতরাং যার যার কর্মের দায় কেবল তারই। এটি এখন সভ্য সমাজে সর্বজনীন মুল্যবোধ হিসাবে গৃহীত হয়েছে। আমরা মনে করি এ মূল্যবোধের উত্তম চর্চ্চা এক কল্যাণকর সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের অন্যতম উপাদান।
আমরা মনে করি উপরোক্ত মূল্যবোধগুলো যা কুরআনে শ্বাশত শিক্ষার অংশ, যা দীর্ঘ পথ-পরিক্রমায় ন্যায় ও ইনসাফের মানদন্ড হিসাবে মানবজাতি গ্রহণ করেছে এবং যা গণতন্ত্রের জন্য বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অপরিহার্য অংশ হিসাবে বিশ্বব্যাপী উত্তম পন্থা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে- আমরা মনে করি কুরআনের অনুসারী হিসাবে, এই ‘কুরআন পাঠ আন্দোলন’-এর মাধ্যমে এ প্রক্রিয়াকে আরো বেগবান করার মাধ্যমে সেটি অধিক উত্তমভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব এবং এভাবেই বিশ্বব্যাপী একটি কল্যাণকর সমাজ প্রতিষ্ঠায় আমরা সক্ষম হব।
আমরা উপরে উল্লেখিত নীতিমালার ভিত্তিতে তেমনই একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই। আমরা চাই বাংলাদেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র হিসাবে এগিয়ে যাবে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-জাত বা মতবাদ, চিন্তার স্বাধীনতা, দল-মত বা পূর্ব শত্রুতার কারণে বিদ্বেষবশত অথবা নিকটজনের প্রতি ভালোবাসা অথবা আবেগ-অনুরাগবশত বা পূর্ব শত্রুতার কারণে রাষ্ট্র তার জনগণের ক্ষেত্রে বিভেদ করবে না। শান্তিপূর্ণভাবে সমাজে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সর্বজনীন মূল্যবোধের চর্চ্চার মাধ্যমে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্রের পক্ষে কল্যাণকর শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের সুযোগ করে দেবে। এর মাধ্যমেই পরস্পর বিরোধী চিন্তার শান্তিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়ায় একটি উত্তম চিন্তার প্রতিফলন ঘটিয়ে একট কল্যাণমূলক সমাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
আমরা জানি, কোন রাষ্ট্রের বা সংগঠনের সংবিধান- সেই রাষ্ট্রের বা সংগঠনের নীতিগুলোকে সংজ্ঞায়িত করে যেগুলোর উপর সেই রাষ্ট্র বা সংগঠন প্রতিষ্ঠিত হয়, যে নীতিমালার উপর ঐ রাষ্ট্রের আইন প্রণীত হয় এবং সে আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমেই সে রাষ্ট্র শান্তি এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।
আমরা জানি নীতি হল একটি সাধারণ ধারণা বা বিশ্বাস যা কিছু কর্মকাণ্ডের নির্দেশনা দেয়, এই নীতির অধীনে সরকার আইনী কাঠামোগুলো তৈরি করে এবং তা প্রয়োগ করে। সাধারণভাবে চিন্তার জগতে কোনো নীতি একটি সুনির্দিষ্ট আইনের চেয়ে ব্যাপক বিস্তৃত হয়ে থাকে।
সংবিধানের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি, সরকারের কাঠামো ও প্রক্রিয়া এবং উচ্চতর আইনে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বর্ণনা করে যা একটি সাধারণ আইন প্রণয়নের মাধ্যমে একতরফাভাবে পরিবর্তন করা যায় না।
সংবিধান একটি জাতীয় সম্প্রদায়ের পরিচয় এবং মূল্যবোধ প্রকাশ করে থাকে। জাতি গঠনের উপকরণ হিসেবে, জাতির মূল্যবোধ, ইতিহাস এবং পরিচয় সম্পর্কে ঘোষণা দিতে পারে।
সংবিধান নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য ঘোষণা ও সংজ্ঞায়িত করে। সংবিধান নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য মৌলিক অধিকারের ঘোষণা দেয়। এর মধ্যে মৌলিক নাগরিক অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা (যেমন চিন্তা, বক্তৃতা, সমিতি এবং সমাবেশের স্বাধীনতা; আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তার বা বেআইনি শাস্তি থেকে স্বাধীনতা)।
সেই সাথে সংবিধান বিশেষ সামাজিক, অর্থনৈতিক উন্নয়নমূলক লক্ষ্যে রাষ্ট্রকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করে। এটি বিচারিকভাবে প্রয়োগযোগ্য আর্থ-সামাজিক অধিকার, নির্দেশমূলক নীতি যা সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক বা অঙ্গীকার বা অভিপ্রায়ের অন্যান্য অভিব্যক্তির রূপ নিয়ে থাকে।
একটি আধুনিক কল্যাণমূলক রাষ্ট্রের সংবিধানে উপরোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে মৌলিক নীতিমালা বর্ণিত হবে যা রাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আইন প্রণয়ণের মাধ্যমে সেই মৌলিক নীতি-আদর্শকে খর্ব করা হবে না।
এই নীতিমালাগুলো হতে হবে স্পষ্ট, পরিষ্কার, সুনির্দিষ্ট, পরিমিত, সহজবোধ্য যাতে রাষ্ট্রের যে কোনো সাধারণ অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন নাগরিক তা বুঝতে পারে এবং সে যাতে রাষ্ট্রের নীতিমালা ও এ নীতিমালার ক্ষেত্রে তার দায়-দায়িত্ব, অধিকার এবং তার নিজের করণীয় সম্পর্কে সম্মুখ জ্ঞান লাভ করতে পারে।
বাংলাদেশের অন্তবর্তী সরকার দেশের বর্তমান সংবিধান সংস্কারে একটি কমিটি গঠন করেছে। যে কমিটির প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পেয়েছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। আমরা মনে করি তাঁর চিন্তা-ই আাগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী সংবিধান প্রণয়নে যথেষ্ট। তারপরেও যেহেতু এই কমিটি দেশের সর্বমহলের কাছে প্রস্তাব চেয়েছেন সেই প্রেক্ষিতে আমরা কুরআন পাঠক হিসাবে আমাদের দায়িত্ব পালনের অংশ হিসাবে এ সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষণ প্রদান করছি।
কুরআন পাঠ আন্দোলন–এর প্রস্তাবনা
১! বাংলাদেশের সংবিধান অত্যন্ত জটিল, বিস্তৃত, বহু ক্ষেত্রে সংবিধান নীতিমালার পরিবর্তে, নীতির সংজ্ঞা অতিক্রম করে বিস্তারিত খুঁটিনাটি আইন প্রণয়ণের দোষে দুষ্ট।
২! বহু ক্ষেত্রে নীতিমালা পরস্পর বিরোধী, অর্থহীন কথামালার দোষে দুষ্ট।
৩! অধিকাংশ মৌলিক অধিকার যা মানুষের জন্মসূত্রে প্রাপ্ত অথবা আমরা যাকে বলতে পারি ‘গড-গিফটেড অধিকার’ বিভিন্ন কথামালার মাধ্যমে তা সীমিত করা হয়েছে বা সরকারের ইচ্ছা অনিচ্ছার অধীন করা হয়েছে।
এই সকল দিক বিবেচনায় আমরা মনে করি বর্তমান প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের যে অভিযাত্রা শুরু হয়েছে, তারই নিরিখে বর্তমান সংবিধান বাতিল করে সময়পোযোগী নতুন সংবিধান প্রণয়ণই অধিক যুক্তিসংগত।
বর্তমান সংবিধানের কয়েকটি ধারায় আমাদের পর্যবেক্ষণ
যেহেতু সংবিধানের আকার বিশাল সুতরাং এটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা, খুবই দীর্ঘ প্রক্রিয়ার বিষয়। আমাদের প্রস্তাবে আমরা সে বিষয়গুলোতে না যেয়ে কয়েকটি ক্ষেত্রে উদাহরণ তুলে ধরে আমাদের বক্তব্যের দিকে সংবিধান সংশোধন কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এক. সংবিধানের শুরুতে ‘বিস্মিল্লাহির-রহ্মানির রহিম’। এটি ইসলাম ধর্মের একটি পবিত্র উক্তি। এটি সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার, নীতির বিরোধী।
বাংলাদেশের নাগরিক বিভিন্ন ধর্মের লোকজন। সকলের জন্যই এই সংবিধান। কিন্তু অন্যান্য ধর্মের লোকজনকে এই বাক্য পড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। আমরা আগেই বলেছি, পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট নির্দেশ ধর্মের বিষয়ে কোন জবরদস্তি নেই। এটি ধর্মকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহারেও শামিল।
দুই. [(১) জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা- এই নীতিসমূহ এবং তৎসহ এই নীতিসমূহ হইতে উদ্ভূত এই ভাগে বর্ণিত অন্য সকল নীতি রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি বলিয়া পরিগণিত হইবে।]
নীতি হিসাবে ১ (১) বর্ণিত বিষয়গুলো পরস্পর বিরোধী এবং সুনির্দিষ্টভাবে কোন নীতি প্রকাশ করে না
১ (২)-এ বলা হচ্ছে ‘এই ভাগে বর্ণিত নীতিসমূহ বাংলাদেশ-পরিচালনার মূলসূত্র হইবে, আইন-প্রণয়নকালে রাষ্ট্র তাহা প্রয়োগ করিবেন, এই সংবিধান ও বাংলাদেশের অন্যান্য আইনের ব্যাখ্যাদানের ক্ষেত্রে তাহা নির্দেশক হইবে এবং তাহা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের কার্যের ভিত্তি হইবে, তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না।
শেষের বাক্য ‘তবে এই সকল নীতি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য হইবে না’। প্রশ্ন হচ্ছে, কোন সরকার বা সংসদ যদি এই সকল নীতির কোন একটিরও লঙ্ঘন করে আইন প্রণয়ন করে- এসব নীতি বিরুদ্ধে কাজ করে- তার প্রতিকার কি হতে পারে?
তিন. দ্বিতীয় ভাগের ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
[১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য(ক) সর্ব প্রকার সাম্প্রদায়িকতা,
(খ) রাষ্ট্র কর্তৃক কোন ধর্মকে রাজনৈতিক মর্যাদা দান,
(গ) রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধর্মীয় অপব্যবহার,
(ঘ) কোন বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন, ধর্মীয় স্বাধীনতা বাস্তবায়নে। বিলোপ করা হইবে।]
আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে: এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতার বাক্যটির বদলে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বা ‘ধর্মীয় অধিকার’
এখানে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শব্দটিই কি যথেষ্ট নয়? ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা’ শব্দটি অতিরিক্ত কোন নীতি প্রকাশ করছে? লক্ষণীয় ১[১২) বলা হচ্ছে- ‘ধর্ম নিরপেক্ষতা নীতি বাস্তবায়নের জন্য’ এখানে কিন্তু বলা হচ্ছে না ধর্মীয় স্বাধীনতা বাস্তবায়নে।
আমাদের প্রস্তাব হচ্ছে – এখানে ধর্ম নিরপেক্ষতা বাক্যটির বদলে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বা ‘ধর্মীয় অধিকার’
চার. ৫. রাষ্ট্রধর্ম [২ক। প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন]
পবিত্র কুরআন অনুযায়ী ধর্ম মানুষের জন্য এবং ধর্ম গ্রহণে কারো উপর জোর-জবরদস্তি নেই। যে স্বেচ্ছায় ইসলাম পালন করে, তার জন্যই ইসলাম ধর্ম। ইসলাম অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তিই যার যার নিজ কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। সুতরাং আমাদের কাছে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ অর্থ রাষ্ট্র তার নীতি হিসাবে রাষ্ট্রের জনগণের উপর ইসলাম চাপিয়ে দিচ্ছে এবং নীতি হিসাবে রাষ্ট্র কর্তৃক চাপানো ‘ইসলাম ধর্ম’ গ্রহণ করার পর বাস্তবে একজন পালন করছে হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্ম। অর্থাৎ নীতিগতভাবে এর মাধ্যমে অন্যান্য ধর্মকে ইসলামের অধীনেই আনা হচ্ছে। এই সংবিধান দ্বারা রাষ্ট্র এখানে ইসলামের গণ্ডির বাইরের একজন নাগরিককে এভাবে দ্বিচারিতা করতে বাধ্য করছে। এটি কুরআনের দর্শনের ঘোর বিরোধী।
পাঁচ: ৬। (১) বাংলাদেশের নাগরিকত্ব আইনের দ্বারা নির্ধারিত ও নিয়ন্ত্রিত হইবে।
(২) বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসাবে বাঙালী এবং নাগরিকগণ বাংলাদেশী বলিয়া পরিচিত হইবেন।]
প্রশ্ন হচ্ছে জনগণ এবং নাগরিক কি দুটি আলাদা বিষয়? যারা বাংলাদেশের জনগণ তারাই বাংলাদেশের নাগরিক। বাংলাদেশের জনগণ বা নাগরিক ভিন্ন জাতির লোকজনও হতে পারে। যেমন বলা হয় চাকমা জাতি। সংবিধানের বিদ্যমান ধারা অনুযায়ী যেহেতু তারা বাংলাদেশের জনগণ সুতরাং তারা ‘বাঙালী জাতি’ – মানে বাঙালী জাতির অন্তর্ভুক্ত একটি উপজাতি, যা কার্যত নয়!
ছয়. সংবিধানের প্রথম ভাগ- প্রজাতন্ত্র অধ্যায়ে বলা হচ্ছেঃ
সংবিধানের প্রথম ভাগ
প্রজাতন্ত্র
১৷ প্রজাতন্ত্র
২৷ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রীয় সীমানা
২ক৷ রাষ্ট্রধর্ম
৩৷ রাষ্ট্রভাষা
৪৷ জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা ও প্রতীক
৪ক। জাতির পিতার প্রতিকৃতি
৫৷ রাজধানী
৬৷ নাগরিকত্ব
৭৷ সংবিধানের প্রাধান্য
৭ক। সংবিধান বাতিল, স্থগিতকরণ, ইত্যাদি অপরাধ
৭খ। সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য
দ্বিতীয় ভাগ
রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি
৮৷ মূলনীতিসমূহ
৯। জাতীয়তাবাদ
১০। সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি
১১৷ গণতন্ত্র ও মানবাধিকার
১২। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা
১৩৷ মালিকানার নীতি
১৪৷ কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি
১৫৷ মৌলিক প্রয়োজনের ব্যবস্থা
১৬৷ গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি বিপ্লব
১৭৷ অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষা
১৮৷ জনস্বাস্থ্য ও নৈতিকতা
১৮ক। পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন
১৯৷ সুযোগের সমতা
২০৷ অধিকার ও কর্তব্যরূপে কর্ম
২১৷ নাগরিক ও সরকারী কর্মচারীদের কর্তব্য
২২৷ নির্বাহী বিভাগ হইতে বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ
২৩৷ জাতীয় সংস্কৃতি
২৩ক। উপজাতি, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি
২৪৷ জাতীয় স্মৃতিনিদর্শন, প্রভৃতি
২৫৷ আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির উন্নয়ন
সংবিধানের মৌলিক বিধানাবলী সংশোধন অযোগ্য ৭খ।সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সংবিধানের প্রস্তাবনা, প্রথম ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, দ্বিতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ, নবম-ক ভাগে বর্ণিত অনুচ্ছেদসমূহের বিধানাবলী সাপেক্ষে তৃতীয় ভাগের সকল অনুচ্ছেদ এবং একাদশ ভাগের ১৫০ অনুচ্ছেদসহ সংবিধানের অন্যান্য মৌলিক কাঠামো সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমুহের বিধানাবলী সংযোজন, পরিবর্তন, প্রতিস্থাপন, রহিতকরণ কিংবা অন্য কোন পন্থায় সংশোধনের অযোগ্য হইবে।]
সুতরাং বর্তমান সুবিধান অনুযায়ী অন্তর্বতীকালীন সরকারের গঠিত এই সংবিধান উল্লেখিত বিষয়গুলো সংস্কার বা সংশোধনের কোন ক্ষমতা নেই। এ ক্ষেত্রে উল্লেখিত বিষয়ে সংশোধনী বা পরিবর্তন চাইলে বর্তমান সংবিধান রেখে তা কোনভবেই সম্ভব নয়। এই অবস্থায় আমরা প্রস্তাব করছি। এই সংবিধানের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের মৌলিক চেতনা অক্ষুন্ন রেখে নতুন বর্তমান সংবিধান জটিলতা পরিহার করে সহজ ভাষায় নীতিমালা বিষয়ক সংবিধান প্রণয়ন।
বর্তমান সংবিধানে যে মৌলিক নীতিমালাগুলো অপরিবর্তনীয় বলে বিধান করা হয়েছে নতুন সংবিধানে সে বিষয় সংক্রান্ত নীতিমালার ক্ষেত্রে নতুন সংবিধানের বিধান যুক্ত হতে পারে: সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে গ্রহণ এবং পরবর্তীতে গণভোটে গৃহীত হলে তা সংবিধান সংশোধনীর অংশ হবে।
সাত. তৃতীয় ভাগ- মৌলিক অধিকার
চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা এবং বাক্-স্বাধীনতা
৩৯। (১) চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতার নিশ্চয়তাদান করা হইল।
(২) রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, বিদেশী রাষ্ট্রসমূহের সহিত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, জনশৃঙ্খলা, শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে কিংবা আদালত-অবমাননা, মানহানি বা অপরাধ-সংঘটনে প্ররোচনা সম্পর্কে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ-সাপেক্ষে
(ক) প্রত্যেক নাগরিকের বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারের, এবং
(খ) সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দান করা হইল।
উপরোক্ত ভাগে (২) অংশটুকু বাতিল করে- তার পরিবর্তে (২) ইচ্ছাকুতভাবে অসত্য তথ্য দিয়ে কোন বিষয়ে গুজব রটানো অথবা কোন ব্যাক্তির মানহানি বা কোন বন্ধু রাষ্ট্রের বিষয়ে গুজব রটানো- বাক্যটি অধিক গ্রহণযোগ্য।
আট. পঞ্চম ভাগ- আইনসভা, ১ম পরিচ্ছেদ, সংসদ
রাজনৈতিক দল হইতে পদত্যাগ বা দলের বিপক্ষে ভোটদানের কারণে আসন শূন্য হওয়া
১[৭০। কোন নির্বাচনে কোন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরূপে মনোনীত হইয়া কোন ব্যক্তি সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হইলে তিনি যদি-
(ক) উক্ত দল হইতে পদত্যাগ করেন, অথবা
(খ) সংসদে উক্ত দলের বিপক্ষে ভোটদান করেন,
তাহা হইলে সংসদে তাঁহার আসন শূন্য হইবে, তবে তিনি সেই কারণে পরবর্তী কোন নির্বাচনে সংসদ-সদস্য হইবার অযোগ্য হইবেন না।]
৭০ বিধানের এক্ষেত্রে দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শব্দটি পরিবর্তন করে দলের গঠনতন্ত্র বা নীতি বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্তে ভোট প্রদান করলে তার সদস্যপদ বাতিল হবে- বাক্যটি সংযোজন করা যেতে পারে।
এক্ষেত্রে স্পিকার তার দলের পক্ষ থেকে সদস্য পদ বাতিলের কোন অনুরোধ তিনি তা আদালতে পাঠাবেন এবং আদালত এই বিষয়ে সংসদ সদস্য তার ভোট দানে দলীয় মূলনীতি বা গঠনতন্ত্র বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন কী-না, সে বিষয়ে রায় দেবে।
নয়. বর্তমান সংবিধানে, রাষ্ট্রপতি, নির্বাহী বিভাগ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন সংসদ ইত্যাদি বিষয়ে যে বিস্তারিত সাধারণ আইনগুলো রয়েছে সেগুলো পৃথক করে সংবিধানে শুধুমাত্র এ সংক্রান্ত নীতিমালা বিষয়ক বিধান থাকবে পারে। সংবিধানের এই নীতিমালার সাথে একটি অধ্যায় যোগ করা যেতে পারে যাতে বলা থাকবে, উক্ত বিষয় সংক্রান্ত যে আইনগুলো করা হবে তা সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে গ্রহণ করার পর প্রেসিডেন্টের সাক্ষরে কার্যকরী হবে এভাবে বর্তমান সংবিধানের আকার পাঠযোগ্য হবে। সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট, পরিষ্কার, বোধগম্য সংবিধানে রূপান্তর করা সম্ভব বলে আমরা প্রস্তাব করছি।
দশ. বর্তমান সংসদের বাইরে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চতর কক্ষ গঠিত হতে পারে। এই কক্ষের কাজ হবে তদারকীমূলক। আইন দ্বারা নির্ধারিত নির্দিষ্ট বিষয়ে আইন প্রণয়নে বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত সংসদের সিদ্ধান্ত তারা পর্যালোচনা করবেন। এই উচ্চতর কক্ষের একজন সভাপতি থাকবেন। এ কক্ষ গঠিত হবে জাতীয় নির্বাচনে ভোটের সামানুপাতিক ভিত্তিতে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব মনোনয়ন অনুযায়ী। তারা যাদেরকে মনোনয়ন দেবেন তার মধ্যে সরকারী কর্মচারী বা আধাসরকারী কর্মচারী ছাড়া রাজনীতিবিদ, বিভিন্ন পেশাজীবি বা ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী, লেখক, চিন্তাবিদ – প্রত্যেকেরই কোটা মত প্রতিনিধিত্ব থাকতে পারে।
****