Back

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে কুরআন পাঠ আন্দোলন-এর পক্ষ থেকে মিডিয়া সংস্কার বিষয়ক প্রস্তাবনা

quran-movement-media-reform-proposal-bangladesh

ভূমিকা: আমরা কুরআন পাঠক এবং কুরআনের অনুসারীরা মনে করি, যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলদের এবং তাঁর কিতাব- কুরআনে বিশ্বাস করেন এবং কুরআনকে তার জীবনের পথ নির্দেশ হিসাবে গ্রহণ করতে চান- যা একজন প্রকৃত মুসলিমের জন্য অপরিহার্য, তারা নিজেরা নিয়মিত কুরআন পাঠ করবেন ও কুরআনে যা বলা হয়েছে সে সম্পর্কে নিজেরা জানবেন এবং সেখানে যে পথ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যথাযথভাবে অনুসরণের চেষ্টা করবেন। এর মাধ্যমে তিনি তার নিজের করণীয় সম্পর্কে নিজেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। এভাবে একজন কুরআন পাঠক জ্ঞানের জগতে নিজেকে ক্ষমতায়ন (Empowerment) করতে সক্ষম হবেন, একই সাথে সামাজিক বিষয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নিজেকে যোগ্য অংশীদার করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারবেন।

আমরা কুরআন পাঠকরা জানি যে দ্বীন-ধর্মে জোর-জবরদস্তি নেই। এমনকি আল্লাহকে, তাঁর রাসুলদেরকে অথবা ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে কেউ যদি ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে, সে ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশ হচ্ছে, সেখান থেকে সরে যাওয়া- সেটা উপেক্ষা করে উত্তম পন্থায় প্রচারণা চালিয়ে যাওয়া।

আমরা জানি, ধর্ম, মতবাদ, মূল্যবোধ প্রচারের জন্য বাক স্বাধীনতার প্রয়োজন। আমরা মনে করি, সমাজে এ ক্ষেত্রে পরস্পর বিরোধী মতবাদ থাকবে। আমরা বিশ্বাস করি, প্রচারের মাধ্যমে এসব মূল্যবোধের মধ্যে উত্তমটিই কেবল সর্বজনীনতা পাবে। এটি কুরআনেরও ঘোষণা, উত্তমই বিজয় লাভ করবে। কিন্তু পরস্পর বিরোধী এ সকল মতবাদ বা মূল্যবোধের উত্তম পথে প্রচারণা এবং চর্চ্চার ক্ষেত্রে যখন কোন স্বৈরাচার কোন পক্ষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেয়, সমস্যাটি দেখা দেয় তখনই। আমরা মনে করি শান্তিপূর্ণ প্রচারণা প্রক্রিয়ায় বাক স্বাধীনতা কেড়ে নেয়া হলে সেটি অত্যাচার-নির্যাতনের শামিল।

কুরআন পাঠ আন্দোলন মনে করে উল্লিখিত প্রক্রিয়া চলমান রাখার ক্ষেত্রে বাক স্বাধীনতা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। শুধুমাত্র প্রচারের মাধ্যমে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে কুরআনের সার্বজনীন মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করে রাষ্ট্র ও সমাজে কুরআনের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সর্বক্ষেত্রে বাক স্বাধীনতা অপরিহার্য। আমরা কুরআন পাঠকরা মনে করি, শান্তিপূর্ণভাবে সমাজে ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে সর্বজনীন মূল্যবোধের চর্চ্চা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাক স্বাধীনতার বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে বাক স্বাধীনতার গুরুত্ব অপরিসীম। শুধুমাত্র বাক স্বাধীনতার মাধ্যমেই বিভিন্ন জাতি, ধর্ম, বর্ণ গোত্রের পক্ষে কল্যাণকর শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনে অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ সম্ভব। এভাবেই পরস্পর বিরোধী চিন্তার শান্তিপূর্ণ মিথস্ক্রিয়ায় একটি উত্তম চিন্তার প্রতিফলন ঘটানো সম্ভব এবং এর মাধ্যমে কল্যাণমূলক সমাজ বা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, যা বস্তুত কুরআনে বর্ণিত উত্তম মূল্যবোধের প্রতিফলন। সুতরাং আমরা বাক স্বাধীনতার পক্ষে সর্বদা সোচ্চার কণ্ঠ থাকতে চাই। এই প্রেক্ষিতে জুলাই বিপ্লবের চেতনায় গঠিত বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে  বাক স্বাধিনতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ হিসাবে বাক স্বাধিনতার ধারক গণমাধ্যম সংস্কারে কমিশন গঠন করেছে। আমরা এই কমিশন গঠনকে স্বাগত জানিয়ে আগামী দিনে বাংলাদেশে দক্ষ, কার্যকর ও কল্যাণমুখী গণমাধ্যম দেখার আশায় গণমাধ্যম সংস্কারে নিম্নলিখিত প্রস্তাব পেশ করছি:

১। গণমাধ্যমগুলোকে ইনস্টিটিউশন হিসেবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিতে হবে। এজন্য তালিকাভুক্ত মিডিয়াগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর নির্দিষ্ট কারণে কিছু নিম্নরূপ শর্ত থাকতে হবে। যেমন, কোন মিডিয়ায় কাঠামো, সাংবাদিকদের সংখ্যা, সুযোগ সুবিধা, বেতন কাঠামো সাংবাদিকদের বার্গেনিং এজেন্টের অবস্থান, ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন প্রদান- যাতে এ সংক্রান্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সহজেই তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, কিভাবে তারা বেতন প্রদান করছে, বেতনের পরিমাণ ইত্যাদি বিষয়গুলো খুব সহজেই ব্যাংকের কাছ থেকে পাওয়া যাবে- উপরোক্ত বিষয়গুলো নির্ধারণ এবং তা নিশ্চিত করতে হবে। যে মিডিয়া এসব বিষয় নিশ্চিত করতে পারবে- কেবল তারাই রেজেষ্টার্ড মিডিয়া হিসাবে স্বীকৃতি পাবে।

২। সাংবাদিকদের জাতীয় বার্গেনিং এজেন্ট যেমন সাংবাদিক ইউনিয়নকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এজন্য এই প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। যেমন তারা তাদের সদস্য তালিকা, চাঁদা গ্রহণ, কোন মিডিয়ামে কোন সমস্যা হলে সে বিষয়ে বার্গেনিং করার অধিকার ইত্যাদির জন্য আইনগত অধিকার পাবে। এই সাংবাদিক ইউনিয়ন জাতীয়ভাবে হবে একটি। এর অধীনে বিভিন্ন মিডিয়ায় আলাদাভাবে সাংবাদিক ইউনিট থাকবে।

৩. প্রত্যেক সাংবাদিক- যারা পেশাজীব হিসেবে মিডিয়ায় কাজ করবেন তাদেরকে এই প্রতিষ্ঠানে তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং নিয়মিত চাঁদা প্রদান করতে হবে। একই সাথে সেই সাংবাদিক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের বার্গেনিং এজেন্ট ইউনিট এর সদস্য হবেন এবং চাঁদা প্রদান করবেন।

৪. যারা পেশাজীবী সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় জাতীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য হবেন, তবে কোনো কারণে তিনি গণমাধ্যমে কর্মরত না থাকলে তিনি সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত বিনা চাঁদায় সাংবাদিক ইউনিয়নের পূর্ণাঙ্গ সদস্য থাকতে পারবেন। তিন মাস পরে তিনি সহযোগী সদস্য হিসেবে থাকতে পারবেন। সহযোগী সদস্যদের সাংবাদিক ইউনিয়নের নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করার প্রয়োজন হবে না -যতদিন না তিনি আবার কর্মজীবী সাংবাদিক হিসেবে কর্মে যোগদান করেন। তবে যে দিন থেকে তিনি আবার কর্মজীবী সাংবাদিক হিসেবে কোন গণমাধ্যমে যোগ দেবেন সেদিন থেকে তিনি পূর্ণাঙ্গ সদস্য পদ ফিরে পাবেন একই সাথে তিনি নিয়মিত চাঁদা প্রদান করবেন। সহযোগী সদস্য থাকা অবস্থায় তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের অনুষ্ঠানাদি ও সকল কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারবেন কিন্তু সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে ভোট প্রদান বা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ তাদের থাকবে না।

৫। তথ্য অধিদফতর একটি মিডিয়ামের জন্য নির্দিষ্ট সংখ্যক এক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান করবে। ঐ মিডিয়াম থেকে যে সকল সাংবাদিক এক্রিডিটেশন কার্ড পাবেন- তাকে ঐ মিডিয়ামে অন্তত তিন বছর কাজ করার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

৬। নতুন মিডিয়াম যাত্রা শুরু করলে তার ক্ষেত্রে ওই মিডিয়াম যতগুলো অ্যাক্টিভিশন কার্ড পাবে, সেগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র যারা সাংবাদিক ইউনিয়নে কমপক্ষে পাঁচ বছর ধরে সদস্যপদ অব্যাহত রেখেছেন তারাই পার্মানেন্ট কার্ড পাবে। এর বাইরে কোন বিশেষ প্রয়োজনে কোন মিডিয়ামের কোন ব্যক্তিকে সাময়িক এক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান করা যেতে পারে।

৭। যে সকল মিডিয়া সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য তালিকাভুক্ত হবে তাদেরকে নির্দিষ্ট সংখ্যক সাংবাদিক কর্মচারী নিয়োগ দিতে হবে, ওয়েব বোর্ড অনুযায়ী বেতন প্রদান করতে হবে, এই বেতন ব্যাংকের মাধ্যমে প্রদান করতে হবে এবং প্রতি ছয় মাস অন্তর অন্তর তারা নিয়মিত বেতন প্রদান করেছে কিনা সে সম্পর্কে প্রমাণপত্র হিসাবে ব্যাংক স্টেটমেন্ট দাখিল করতে হবে।

৮। যে কেউ সাংবাদিকতা পেশা গ্রহণ করতে চাইলে তাকে কমপক্ষে ডিগ্রি পাস হতে হবে। এর অতিরিক্ত পিআইবি থেকে অথবা অন্য কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে সাংবাদিকতার উপর কমপক্ষে এক বছরের একটি কোর্স করতে হবে, অথবা কোন মিডিয়ামে কমপক্ষে ২ বছর অ্যাপ্রেনটিস  হিসাবে কাজকরতে হবে। এই যোগ্যতা ছাড়া নতুন কেউ জাতীয় সাংবাদিক ইউনিয়নের মেম্বার হতে পারবেন না।

৯। কোন সাংবাদিক অপরাধ, অসদাচারণ বা অন্য কোন ক্রিমিনাল অভিযোগে অভিযুক্ত বলে প্রমাণিত হলে তাকে চাকরিচ্যুত করা যাবে। কোন প্রতিষ্ঠানে ছাটাইয়ের প্রয়োজন দখা দিলে দেশে প্রচলিত লেবার আইন অনুযায়ী তা করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে সাংবাদিকদের বার্গেনিং এজেন্টগুলো এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সেটি পছন্দ না করলে তিনি আদালতের আশ্রয় নিতে পারবেন।

১০। প্রত্যেকটি মিডিয়ামকে তার প্রকাশকালীন এডিটরিয়াল পলিসি প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে হবে। পরবর্তীতে এই এডিটরিয়াল পলিসির কোন পরিবর্তন করলে সে বিষয়টিও প্রকাশ্য ঘোষণা করে জানাতে হবে।

১১। দেশের বাক স্বাধীনতা সংক্রান্ত আইনের অধীনে কেবলমাত্র স্বেচ্ছায় মিথ্যা বলা বা গুজব রটনা সিভিল অপরাধ গণ্য হবে। এই নীতির অধীনে কোন সংবাদ মাধ্যম কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত রিপোর্টে যদি এমন কোন তথ্য প্রকাশ করেন, যাতে ঐ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান  মনে করেন যে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে যা তার জন্য মানহানিকর, তবে তিনি সেই মিডিয়া, মিডিয়ার সংশ্লিষ্ট রিপোর্টার এবং এডিটরের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা দায়ের করতে পারবেন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তাদের প্রমাণ পত্র পেশ করার পরে যদি মামলা খারিজ হয়ে যায়, তবে এই মামলার খরচের জন্য সংশ্লিষ্ট পত্রিকা মামলা দায়েরকারীর বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায় করতে পারবেন। ঠিক একই ভাবে যদি প্রমাণ হয় যে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা মিথ্যা বলেছে বা মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করেছে, সে ক্ষেত্রে যার মানহানি হয়েছে, তিনি তার মানহানির জন্য ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য হবেন, এবং সেই সাথে মামলার ব্যয়ও পাবেন। এই মামলা হবে সিভিল মামলা। প্রয়োজনে এ সংক্রান্ত আইন প্রণয় করতে হবে। এজন্য প্রত্যেকটি সংবাদ মাধ্যম ইন্সুরেন্সের অধীনে আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পত্রিকাগুলো কোন একটি নির্দিষ্ট ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাথে যুক্ত থাকবেন ইন্সুরেন্স প্রিমিয়াম প্রদান করে। যদি তার বিরুদ্ধে এই ধরনের মানহানি মামলা ক্ষতিপূরণ দেয়ার প্রয়োজন হয়, তবে সেই ইন্সুরেন্স কোম্পানি সেই ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে। এজন্য প্রচলিত ইন্সুরেন্স কোম্পানির অধীনে নির্দিষ্ট আইন করা যেতে পারে অথবা এ সংক্রান্ত একটি পৃথক ইন্সুরেন্স কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।

১২। যারা ব্যক্তিগতভাবে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকতা, সোশ্যাল মিডিয়ায় বা ব্লগে সাংবাদিকতা করতে চান তারা, বাকস্বাধীনতা সংক্রান্ত দেশের আইনের অধীনে তাদের নিজ দায়িত্বে সাংবাদিকতা করবেন। তাদের জন্য গণমাধ্যম কর্মী শব্দটি প্রযোজ্য হবে না।

১৩। দেশের সাংবাদিকতা সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মকান্ড, সমস্যা, সম্ভাবনা ইত্যদি সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়মিত মনিটরিং -এর জন্য এবং এ সংক্রান্ত বাৎসরিক রিপোর্ট প্রকাশ করার জন্য প্রেস কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে। সেই সাথে এই প্রেস কাউন্সিল মিডিয়া এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন সমস্যা বা বিরোধ আরবিটেশন পদ্ধতিতে সমাধানের চেষ্টা করবে। এর মধ্যে সাধারণ মানহানির মামলাও থাকতে পারে। কোন সাংবাদিক বা মিডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তসহ মিডিয়া সংক্রান্ত বিষয়ে কাউকে পুরস্কার এবং তিরস্কারের দায়িত্বও তারা পালন করবে।

সাধারণ মানহানি সংক্রান্ত অভিযোগগুলো তারা আরবিটেশন পদ্ধতিতে বাদী এবং বিবাদী- উভয় পক্ষের প্রমাণাদি নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে পৌছাবে। এ ক্ষেত্রে যদি প্রমাণিত হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তবে সংশ্লষ্ট সাংবাদিক এবং মিডিয়ামকে তারা সতর্ক করবেন। সে সতর্ককরণ সংশ্লিষ্ট মিডিয়ামে প্রকাশ করা বাধ্যতামুলক। এভাবে একই বছরে কোন সাংবাদিক বা মিডিয়ামকে তিনবার সতর্ক করা হলে সে সাংবাদিককে চাকুরীচ্যুত করার এবং মিডিয়ামকে জরিমানা করার অধিকার থাকবে।

 

Shawkat Zawhar
Shawkat Zawhar
https://quranpathandolan.org/
শওকত জাওহারের জন্ম ১৯৮৩ সালে নোয়াখালী জেলার দ্বীপ হাতিয়ায়। পিতা মুহাম্মদ আবদুশ শহীদ এবং মাতা আজমলেন্নেছা। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস সম্পন্ন করেন। পিতার প্রেরণায় এবং পারিবারিক লাইব্রেরির ধর্মীয় বই পড়ে তিনি ধর্মানুরাগী হয়ে ওঠেন। মুসলিম সমাজ ও সাহিত্যে ধর্মীয় চিন্তার বিভিন্নতা তাঁকে তুলনামূলক অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করে। ২০০৮-২০১০ সালে তিনি প্রফেসর ডা. মতিয়ার রহমান প্রতিষ্ঠিত কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (QRF) রিসার্চ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি আনিবু কুরআন (আসুন নিজেরা বুঝি কুরআন) নামে ‘বেসিক কুরআনিক এরাবিক গ্রামার কোর্সে’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১১-২০১৩ সালে তিনি বিশিষ্ট কুরআন গবেষক তৈয়াবুর রহমান গোপালগঞ্জীর সান্নিধ্যে ‘কুরআনের ব্যাখ্যায় কুরআন’ নীতিভিত্তিক মৌলিক জ্ঞানার্জন করেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আল কুরআন রিসার্চ সেন্টার’-এ (প্রতিষ্ঠা- ১৯৮১) রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে পেশাগতভাবে বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে ‘দি ইনস্টিটিউট ফর কুরআনিক রিসার্চ এন্ড এ্যাপ্লিকেশন (দি ইক্বরা)’-এ রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। সেই সাথে কুরআন পাঠ আন্দোলন এর একজন যুগ্ম আহবায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *