Back

চট্টগ্রামের দুই ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজে কুরআন পাঠ আন্দোলনের শিক্ষা সেমিনার অনুষ্ঠিত

কুরআন পাঠ আন্দোলনের আহ্বায়ক আবু সাঈদ খান ১২–১৪ মে চট্টগ্রাম সফর করেন। সফরকালে তিনি চট্টগ্রামের দুই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান— চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ এবং চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ–এ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দুটি শিক্ষা সেমিনারে বক্তব্য প্রদান করেন।

১৩ মে বুধবার চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ-এর রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে “শিক্ষা উদ্বুদ্ধকরণে কুরআনী নির্দেশনা” শীর্ষক একটি অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী-এর বিশেষ আগ্রহ ও তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সেমিনারে অনার্স রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

বক্তব্যে আবু সাঈদ খান মানবসৃষ্টির সূচনা থেকেই শিক্ষার সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি কুরআনের আলোকে বিভিন্ন পাঠপদ্ধতি, চিন্তাশীল অধ্যয়ন, অনুসন্ধানী মনোভাব এবং জ্ঞানচর্চার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের উন্নততর চিন্তার মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নাসির উদ্দীন সেমিনারে বক্তব্য দিয়ে কুরআন পাঠ আন্দোলনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং আবু সাঈদ খানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী শিক্ষার্থীদের কুরআনের আলোকে আধুনিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান। তিনি কুরআনের বিভিন্ন আয়াত উদ্ধৃত করে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার সমন্বিত চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী কুরআন অধ্যয়ন ও কুরআনী ভাবধারার একজন আগ্রহী অনুশীলক হিসেবে পরিচিত। তিনি নিয়মিত কুরআনের আলোকে শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের নসিহত ও উদ্বুদ্ধ করে থাকেন।

একই দিন রাতে আবু সাঈদ খান চট্টগ্রামের আসকার দিঘীর পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম-এর সম্পাদক ও মহারাজ স্বামী শক্তিনাথানন্দ-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতে কুরআন পাঠ আন্দোলনের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা প্রদান করা হয় এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য ও আন্তধর্মীয় সহাবস্থান রক্ষায় ধর্মীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় সমসাময়িক আঞ্চলিক বাস্তবতা, বিদ্বেষমূলক রাজনীতির সম্ভাব্য সামাজিক প্রতিক্রিয়া এবং বাংলাদেশে সম্প্রীতি রক্ষায় সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উঠে আসে। এ সময় সেবাশ্রমের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

সফরের শেষ দিন ১৪ মে বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সরকারি মহিলা কলেজ-এ “কুরআন নির্দেশিত পাঠ পদ্ধতি” শীর্ষক আরেকটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রেজা খান হেলালী এবং উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহনাজ বেগম-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ সেমিনারে বিভিন্ন বিভাগের প্রায় আড়াই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক শওকত আলী অনুষ্ঠানটির তত্ত্বাবধান করেন।

সেমিনারে আবু সাঈদ খান “জিজ্ঞাসা ও অনুসন্ধানমূলক পাঠপদ্ধতি” নিয়ে কুরআনের বিভিন্ন দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেকোনো বিষয়ে কার্যকর শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রথমে প্রশ্ন তৈরি করা, তারপর অনুসন্ধান ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে উত্তর খোঁজা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কুরআনের বহু আয়াতে মানুষকে চিন্তা, পর্যবেক্ষণ, প্রশ্ন ও উপলব্ধির আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ সেমিনার দুটির আলোচনা গভীর আগ্রহের সঙ্গে উপভোগ করেন। ভবিষ্যতে চট্টগ্রামে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের শিক্ষা ও চিন্তামূলক সেমিনার আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

Shawkat Zawhar
Shawkat Zawhar
https://quranpathandolan.org/
শওকত জাওহারের জন্ম ১৯৮৩ সালে নোয়াখালী জেলার দ্বীপ হাতিয়ায়। পিতা মুহাম্মদ আবদুশ শহীদ এবং মাতা আজমলেন্নেছা। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) এবং এমএসএস সম্পন্ন করেন। পিতার প্রেরণায় এবং পারিবারিক লাইব্রেরির ধর্মীয় বই পড়ে তিনি ধর্মানুরাগী হয়ে ওঠেন। মুসলিম সমাজ ও সাহিত্যে ধর্মীয় চিন্তার বিভিন্নতা তাঁকে তুলনামূলক অধ্যয়নে উদ্বুদ্ধ করে। ২০০৮-২০১০ সালে তিনি প্রফেসর ডা. মতিয়ার রহমান প্রতিষ্ঠিত কুরআন রিসার্চ ফাউন্ডেশনে (QRF) রিসার্চ ফেলো হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি আনিবু কুরআন (আসুন নিজেরা বুঝি কুরআন) নামে ‘বেসিক কুরআনিক এরাবিক গ্রামার কোর্সে’ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ২০১১-২০১৩ সালে তিনি বিশিষ্ট কুরআন গবেষক তৈয়াবুর রহমান গোপালগঞ্জীর সান্নিধ্যে ‘কুরআনের ব্যাখ্যায় কুরআন’ নীতিভিত্তিক মৌলিক জ্ঞানার্জন করেন এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আল কুরআন রিসার্চ সেন্টার’-এ (প্রতিষ্ঠা- ১৯৮১) রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করেন। তিনি ২০১৩ সাল থেকে পেশাগতভাবে বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে ‘দি ইনস্টিটিউট ফর কুরআনিক রিসার্চ এন্ড এ্যাপ্লিকেশন (দি ইক্বরা)’-এ রিসার্চ ফেলো হিসেবে কাজ করছেন। সেই সাথে কুরআন পাঠ আন্দোলন এর একজন যুগ্ম আহবায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *